কেরানীগঞ্জে গতকাল সারা রাত অভিযোগ পেয়েছি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৩ (কেরানীগঞ্জের একাংশ) আসনের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৩ (কেরানীগঞ্জ একাংশ) আসনের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।

ভোট দেওয়ার পর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। আজ তাঁরা ভোট দিতে পারছেন। আমরা চাই, প্রত্যেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে বিএনপির অনেক অবদান রয়েছে। অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে, সন্তানের বুকের রক্ত ঝরেছে।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও কেরানীগঞ্জে গতকাল বুধবার সারা রাত অভিযোগ পেয়েছি। রাত ১০টা, ১২টা ও ১টায়, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর লোকজন ভোটকেন্দ্রে ঢুকেছেন। এই ‍মুহূর্ত পর্যন্ত জিনজিরা পি এম পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে তাঁদের বের করতে পারে নাই। কেন পারে নাই, কী দুর্বলতা, সেটি দেখতে যাচ্ছি।’

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী–পুরুষ ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে সকাল সোয়া আটটায় মুসলিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম ভোট দেন। বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে শাহীনুর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রার্থী যে অভিযোগ করছেন, সেটি কি আদৌ সম্ভব? এটি শুনে হাসি পেল। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ সাধারণ জনগণ কখনো মেনে নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘সকালে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এখন স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রশাসন আন্তরিক। আমরা চাই, প্রত্যেক ভোটার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। নিজের ভোট যাঁকে খুশি তাঁকে দেবে, সেটি যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।’

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর, কোন্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৮। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭১ জন ও হিজড়া ভোটার ৪ জন। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৬টি। এ আসনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ধানের শীষ), জামায়াতের অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), গণফোরামের রওশন ইয়াজদানি (উদীয়মান সূর্য), গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া (মাথাল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান আহম্মেদ খাঁন (হাতপাখা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর (ডাব), জাতীয় পার্টির মো. ফারুক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মজিবুর হাওলাদার (মই), গণ অধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ (ট্রাক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন (ফুটবল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *