কুয়াশায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল তিন ঘণ্টা ব্যাহত

কুয়াশার ঘনত্বও বাড়ায় নদীপথে কুয়াশায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল তিন ঘণ্টা ব্যাহত

কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে আবারও ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। মাঝনদীতে একটি বড় ফেরি আটকে ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, টানা তিন দিন ধরে প্রতিদিন সকালে কুয়াশার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে কয়েক ঘণ্টা করে ফেরি বন্ধ থাকছে। আজ ভোররাত থেকে পদ্মা নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকলে নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এমন অবস্থায় ভোররাত সাড়ে চারটার পর পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রো রো (বড়) ফেরি ‘শাহ পরান’ মাঝনদীতে এসে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দিক হারিয়ে ফেলে। বাধ্য হয়ে ফেরিটি মাঝনদীতে নোঙর করে থাকে। মাঝনদীতে ফেরি আটকে যাওয়ার সংবাদ পাওয়ায় ভোর ৫টার পর দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময়ে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ‘শাহ মখদুম’, কে–টাইপ (মাঝারি) ফেরি ‘বাইগার’, ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ‘বনলতা’ নোঙর করে থাকে। একইভাবে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ‘ভাষাশহীদ বরকত’ এবং ৭ নম্বর ঘাটে ‘ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা’, ‘কেরামত আলী’ ও ইউটিলিটি ফেরি ‘হাসনা হেনা’ নোঙর করে থাকে।

তিন ঘণ্টা পর সকাল ৮টার পর থেকে কুয়াশা অনেকটা কমে গেলে প্রথমে মাঝনদীতে থাকা রো রো ফেরি শাহ পরান দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভেড়ে। এরপর একে একে উভয় ঘাট থেকে নোঙরে থাকা ফেরিগুলো নির্দিষ্ট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে গতকাল রোববার সকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টা এবং তার আগের দিন শনিবার সকালেও এই নৌপথে আরও আড়াই ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এ ছাড়া গত সপ্তাহে দুই দিন প্রায় তিন ঘণ্টা করে কুয়াশায় ফেরি বন্ধ ছিল।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, গরমকালে এসে কয়েক দিন ধরে রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় পদ্মা নদী অববাহিকায় কুয়াশা পড়ছে। নৌপথে নৌযানের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে ফেরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও যাত্রী ও চালকদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *