রমজানে সেহরিতে যা খাবেন

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবার থেকে তারাবিহ ও সেহরি শুরু। তার মানে বৃহস্পতিবার প্রথম রোজা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে হলে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার।

সিয়াম সাধনার আত্মশুদ্ধির এই মাসে আমরা অনেকে যে বিষয়ে চিন্তিত থাকি, তা হচ্ছে ইফতার ও সেহরির খাদ্যতালিকা নিয়ে। তাই সেহরিতে ভারসাম্যপূর্ণ স্বাস্থ্যকর, পরিকল্পিত ও সুষম খাবার খেতে হবে।

সেহরিতে যেসব খাবার খাবেন

শর্করাসমৃদ্ধ খাবার

সেহরিতে এমন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত, যা হজম হতে সময় লাগে এবং দীর্ঘক্ষণ কর্মশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু, চিড়া, ওটস, সিরিয়াল, বার্লি, লাল আটার রুটি ইত্যাদি সেহরির খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার

সেহরিতে আমিষ বা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মুরগির মাংস, কবুতরের মাংস, কোয়েলের মাংস, তরল দুধ, গুঁড়া দুধ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, ডিম, ডাল, সয়া বড়ি ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।

আঁশ ও পানিযুক্ত সবজি

সেহরির খাদ্যতালিকায় আঁশ ও পানিযুক্ত সবজি রাখতে হবে। রাখতে হবে ডাঁটা, পটোল, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, মিষ্টিআলু, বেগুন, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, বিভিন্ন জাতের সবুজ শাক, কচু, টমেটো ইত্যাদি।

সেহরিতে যেসব খাবার খাবেন না

ভাজাপোড়া, বেশি তেল ও মসলা দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়া যাবে না। তরকারিতে ঝোল রাখতে হবে। সেহরিতে পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।

সেহরিতে টকজাতীয় ফল খাওয়া যাবে না। এতে অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ, টেস্টিং সল্ট দিয়ে খাবার রান্না করা যাবে না। তাতে পানিশূন্যতা বাড়তে পারে।

সেহরির পর চা, কফি বা কোমল পানীয় পান করা যাবে না। এসব খাবারে ক্যাফেইন থাকে। এতে করে বারবার প্রাসাব হলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাবে এবং খুব দ্রুত তৃষ্ণা পাবে।

যা মেনে চলবেন

সারা দিন না খেয়ে থাকতে হবে বলে সেহরিতে বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। পরিমাণমতো খাবার ও পানি পান করতে হবে। সেহরি খাওয়া শেষে খেজুর, মধু, কলা, তরল দুধ খাওয়া যেতে পারে।

সেহরি খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়া যাবে না। খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর একটু হাঁটাহাঁটি করতে হবে। সেহরি খাওয়ার পর বিরতি দিয়ে দিয়ে একটু একটু করে পানি পান করতে হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *