রমজান মাসে দরিদ্র প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক স্কলার, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া একটি পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন—
‘আমরা যারা সামর্থ্যবান, প্রতিদিন নানা রকমের সুস্বাদু ইফতার করি। কিন্তু কি কখনও আমাদের পাশের দরিদ্র মানুষটার খোঁজ নিয়েছি? দরিদ্র মানুষকে ইফতার করানো রমজানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু ইবাদত নয়, বরং আত্মপ্রশান্তিরও কারণ। তাই, এই রমজানে প্রতিবেশীর ঘরে ইফতার কিনে পাঠানো সম্ভব ‘
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন—
‘ধরুন, আপনার এলাকার বস্তিতে একজন রিকশাচালক থাকেন। রমজানে তিনি পরিবার নিয়ে সীমাহীন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার ছোট ছোট সন্তানদের মজাদার ইফতার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু সেই রিকশাচালকের সামর্থ্য সীমিত। সন্তানদের সামনে তিনি হতাশ হয়ে বসে আছেন। এমন মুহূর্তে আপনি ইফতারের ব্যাগ নিয়ে তার বাড়িতে গেলে কল্পনা করুন সেই পরিবারের আনন্দ! আপনার এক ব্যাগ বাজারের মাধ্যমে তাদের ঘরে সুখের জান্নাত রচিত হবে।’
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও সতর্ক করেছেন—
‘আমরা অনেকেই দরিদ্রদেরকে ইফতার কিনে দেই, কিন্তু সাহরির দিকে নজর রাখি না। অথচ রোজার শক্তি সঞ্চয়ের জন্য পুষ্টিকর সাহরিও জরুরি। বাজারে গেলে শুধু নিজের কাজের ব্যস্ততায় মন না দিয়ে আশপাশে চোখ রাখুন। হয়তো কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি দুর্মূল্যের কারণে হঠাৎ গরিব হয়ে গেছে। তারা কিছু চান, কিন্তু সাধ্য নেই। সম্ভাব্য হলে বিনয়াবত মুচকি হেসে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যটি কিনে দিন। এতে কিছু খরচ হবে, কিন্তু আপনার বুক অপার্থিব মানসিক প্রশান্তিতে ভরে উঠবে।’
শায়খ আহমাদুল্লাহ শেষ করেন—
‘নিজের খাবারের একাংশ অনাহারের মুখে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যেই যে অপার্থিব সুখ, তা একলা ভোগের মাধ্যমে কখনোই পাওয়া যায় না। যদি আপনার সহযোগিতায় কষ্টে থাকা রোজাদারের মুখে হাসি ফুটে, আশা করা যায় মহান আল্লাহও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। কারণ হাদিসে এসেছে— যে ব্যক্তি কোনো দুস্থের অভাব দূর করবে, মহান আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন।’
রমজান মাসে প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং তাদের জন্য ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করা শুধুমাত্র সদকা বা দান নয়; এটি আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য পথ।


