
ছবি: সংগৃহীত।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে প্রেমিককে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন। আর প্রেমিক এই প্রলোভনে সাড়া দিলে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। সেই টাকা নিয়ে কেটে পড়েন প্রেমিকা।
এভাবে একাধিক তরুণকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করে দেশের বাইরে পাড়ি জমিয়েছেন নার্স জিনিয়া তাসনিম টুম্পা। এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
টুম্পা যশোর নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স করে ঢাকার এভারকেয়ার হসপিটালে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই পড়াশোনার উদ্দেশে পাড়ি জমায় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে। কিন্তু, এভারকেয়ার হসপিটালে কর্মরত থাকাকালে একজন চিকিৎসকের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ওই চিকিৎসককে একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে অনৈতিক কাজের জন্য এভারকেয়ার হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসককে চাকরিচ্যুত করে।
তাছাড়াও জিনিয়া বিবাহিত হয়েও ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে অনেক তরুণকে করেছে সর্বস্বান্ত। ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে সে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় ও অনেক প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে আমেরিকায় বিলাসী জীবন যাপন করছে।
ফয়সাল আহমেদ নামক একজন তরুণের সাথে জিনিয়ার সম্পর্ক হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জিনিয়া তার নিকট নগ্ন ছবি পাঠিয়ে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে বিভিন্ন জনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে বড় বড় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং কয়েকজন তরুণের জীবন সে নষ্ট করেছে। জিনিয়া ভালোবাসার নামে একেকজনকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে। এমনকি তার পরিবারের লোকজনও ইউরোপ/ আমেরিকা যেতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের বিদেশে নেওয়ার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করে।
তেমনি সর্বস্বান্ত হওয়া এক তরুণ মাকসুদুল আলম মাইনুদ্দিন। এই তরুণের মামলায় আসামি হয়ে জেল খাটছেন জিনিয়ার বাবা বাবুল আখতার (৫০)। তবে বাবা জেলে থাকলেও তার মা আয়েশী ধরেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মাকসুদুলের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আমেরিকা নেওয়ার কথা বলে তাদের দুজনের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা নেয় জিনিয়ার পরিবার। পরবর্তীতে তাদের আমেরিকা পাঠাতে ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়। এঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামিদের বিরদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।
মোঃ রাসেল হাওলাদার (৩০) বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার, ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার অভিযোগ দেখিয়ে জিনিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করে। মানবপাচার পিটিশন কেইস নং- ১৮০/২০২৫। তাছাড়াও ফারুক আহমেদ নামে একজনকে ইতালি নিয়ে যাবার প্রলোভন দেখিয়ে তার থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিনিয়া। তাকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়, সেখান থেকে ইতালি নেয়ার কথা।
এভাবে জিনিয়া ও তার সহযোগীরা অনেককে বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে। এমন গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও আসামির বিদেশ পলায়ন করায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, জিনিয়াকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।


