১৯ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নতুন করে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু অঘোষিত ফাইনালে এই অঞ্চলের ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি, চীনা দেওয়াল টপকাতে পারল না গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। বরং স্বাগতিকদের কাছে ৪-০ গোলের বড় হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের। গ্রুপ থেকে চীন চ্যাম্পিয়ন হয়ে সৌদি আরবে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। রবিবার চীনের চোংকিংয়ে ইয়ংচুয়ান স্পোর্টস সেন্টার স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সামনে দাপট দেখিয়ে সহজেই ম্যাচ জিতেছে স্বাগতিক দল। বাংলাদেশ ৫ ডিফেন্ডার নিয়েও গোল আটকাতে পারেনি। রক্ষণের একের পর এক ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে।
৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চীন। মধ্য মাঠ থেকে লং পাসে ডান দিকের মাপা ক্রস গোলকিপার তালুবন্দি করার আগেই ৬ গজের ভেতরে সুয়েয়ি ওইহাও শুধু এক টোকায় বলের গতি পরিবর্তন করে দেন। ৩৯ মিনিটে নিজেদের ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। কামাল মৃধা ব্যাকপাসে বল নিয়ে কিছু করার আগেই সুয়েয়ি ওইহাও দৌড়ে এসে তার পা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। ৫২ মিনিটে সুয়েয়ি ওইহাও হ্যাটট্রিক করেন। ডান প্রান্তের ভাসিয়ে দেওয়া বলে ওইহাও লাফিয়ে উঠে হেডে স্কোর ৩-০ করে বাংলাদেশকে একদম ব্যাকফুটে ফেলে দেন। ৮৯ মিনিটে চীন চতুর্থ গোল করে বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা নিশ্চিত করে। তিমুর লেস্তেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরুর পর, ব্রুনেইকে ৮-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫-০ গোলে পরাজিত করে বাংলার দামাল ছেলেরা। এ ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী বাহরাইনকে হারায় ২-১ গোলে। ১৬ দল নিয়ে আয়োজিত হবে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়া কাপ। এরই মধ্যে ৯ দল মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, বাকি ৭ দল বাছাইপর্ব থেকে যাবে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে দুবার আর অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে চারবার অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাছাই পেরোলেও মূল পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারে। ২০২০ সালে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হলেও করোনার কারণে মূল টুর্নামেন্ট হয়নি। ২০১৪ সালে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ।
চীনের প্রাচীরে কিশোরদের স্বপ্নভঙ্গ

Leave a Comment

