ঢাকার কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশে স্থাপিত যুবদলের একটি রাজনৈতিক তোরণ ভেঙে পড়েছে বিআরটিসির একটি চলন্ত বাসের সামনে। এতে মুহূর্তেই বাসের যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তোরণ ভেঙে পড়ার সময় কোনো হতাহত হয়নি।
সরেজমিনে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় গেলে দেখা যায়, ভাঙা তোরণটির কাঠের ফ্রেম ও বাঁশ সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ভাঙা তোরণটি সরিয়ে নিচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে তোরণটি সড়কের মাঝের বিভাজক এবং অপর প্রান্তের বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়লে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভাঙা কাঠামো সরিয়ে ফেললে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসির এক বাসচালক বলেন, তোরণটি থাকার কারণে গাড়ি চালাতেও অসুবিধা হত। রাজনৈতিক তোরণ হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহস পেত না।
বিআরটিসির বাসে থাকা এক নারী যাত্রী সামিয়া বলেন, কদমতলী থেকে গুলিস্তান যাওয়ার জন্য বিআরটিসির বাসে উঠেছি। হঠাৎ দেখি বিশাল এক কাঠামো বাসের সামনে পড়ছে। সবাই আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে। অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। রাজনৈতিক তোরণ সড়কের পাশে রাখা মানে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
তোরণ ভেঙে পড়ার সময় রাস্তা পার হচ্ছিলেন পথচারী বেলাল মিয়া। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন অফিসের জন্য এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। হঠাৎ দেখি মাথার ওপর থেকে একটা বিশাল তোরণ ভেঙে পড়ছে। কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে আমার ওপরই পড়ত। এখনো ভয় পাচ্ছি। সড়কে যেভাবে রাজনৈতিক দলের তোরণ ও ব্যানার টাঙানো থাকে, তাতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কদমতলী গোলচত্বর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কদমতলী ও এর আশপাশের এলাকায় আগানগর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আরমানুল হক ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেন সানিসহ শ্রমিকদলের নেতা-কর্মীদের ব্যানার-পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে নতুন ব্যানার পোষ্টার দিয়ে সড়কের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা ছেয়ে ফেলেন। তিনি আরো বলেন, রাজনীতির নামে এসব তোরণ, ব্যানার, পোষ্টার সবই এখন বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। আগে সৌন্দর্যের জন্য গাছপালা ছিল, এখন সব জায়গায় রাজনৈতিক দলের ব্যানার ও পোষ্টার ঝুলছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে আসে, কিন্তু পরে আবার একই অবস্থা হয়।
আগানগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেন সানি বলেন, দলীয় ব্যানারগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় ব্যানার স্থাপন করলে মানুষের অসুবিধা হয় সেগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো। যাতে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা না হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ মামুন বলেন, তোরণটি পুরোনো ছিল। সেটি সরানোর জন্য দল নির্দেশ দিয়েছিল। হঠাৎ ভেঙে পড়ায় দলীয় কর্মীরা দ্রুত তা সরিয়ে ফেলেছে। এতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক সোনিয়া আক্তার বলেন, তোরণটি অপসারণের জন্য আগেই দলীয় নেতাদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। সম্ভবত বাঁশ পচে যাওয়ার কারণেই এটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সেটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।


