কুয়েটে অনার্স শেষ করেই পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন নুসরাত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক নুসরাত জাহান

পিএইচডিকে বলা হয় সর্বোচ্চ একাডেমিক ডিগ্রি। শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনার্স, মাস্টার্স শেষে পিএইচডির প্রস্তুতি নেন। তবে মাস্টার্সের আগেও কিন্তু চাইলে পিএইচডির ট্রেনে চড়ে বসা যায়। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থীই স্নাতক শেষে পিএইচডি শুরু করছেন। তাঁদের একজনের গল্প শোনাচ্ছেন ফুয়াদ পাবলো

চাকরি, মাস্টার্স, নাকি অন্য কিছু? এই দ্বিধা নুসরাত জাহানকে কাবু করতে পারেনি। সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই স্নাতক। পরিকল্পনা অনুযায়ী অনার্স শেষ করেই সরাসরি পিএইচডি করতে চলে যান যুক্তরাষ্ট্র। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি তাঁর নতুন ঠিকানা। সেখানেই পূর্ণ অর্থায়নসহ সিমুলেশনভিত্তিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি।

তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বিভাগের বড় ভাইবোনদের মাধ্যমে নুসরাত জানতে পারেন, অনার্স শেষ করেই সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করা যায়। এই একটা তথ্যই তাঁকে পুরো পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, যদি গবেষণাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাই, তাহলে শুরু থেকেই সেই পথে হাঁটতে হবে। মাস্টার্স করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে একটানা কাজ করাই আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। ফলে পিএইচডির অফার পাওয়াটা সহজ হয়েছে।’

গবেষণার প্রতি আগ্রহ জেগেছিল করোনাকালে। দীর্ঘদিন বাসায় ছিলেন। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদির ব্যাপারে ঝোঁক ছিল। সেখান থেকেই কোডিং শেখা। পরে সিমুলেশনভিত্তিক ল্যাবে কাজ করার সুযোগ পান নুসরাত। তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে শিখেছি, শুধু ফলাফল জানলেই গবেষণা হয় না। কেন এমন হলো, কীভাবে হলো—এই প্রশ্নগুলো করতে হয়। একটি ধারণাকে মডেলে রূপ দেওয়া, তারপর সেখান থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা, এই প্রক্রিয়াই আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে।’

পিএইচডির জন্য নির্বাচিত হওয়ার পেছনে শুধু ভালো একাডেমিক ফল নয়, পরিকল্পিত প্রস্তুতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনার্সের শুরু থেকেই নুসরাত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। সিমুলেশনভিত্তিক একাধিক প্রকল্পে কাজ করেছেন। ল্যাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা, গবেষণাপত্র পড়ার অভ্যাস এবং সমস্যাকে বিশ্লেষণ করার দক্ষতা ধীরে ধীরে তাঁকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। আবেদন করার সময় তিনি তাঁর সম্ভাব্য সুপারভাইজারের সাম্প্রতিক কাজগুলো পড়ে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল খুঁজে নিয়েছিলেন। নুসরাত বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই মাথায় রেখেছিলাম, শুধু ভালো রেজাল্ট করলে হবে না। আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমি গবেষণার জন্য প্রস্তুত। তাই ল্যাবে যতটা সম্ভব সময় দিয়েছি, নিজের কাজ বুঝে শিখেছি। আবেদন করার আগে যেসব প্রফেসরের কাছে আবেদন করেছি, তাঁদের কাজ মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আমি কী করতে চাই, কেন করতে চাই, এটা পরিষ্কারভাবে লিখেছি। আমার মনে হয়েছে, স্পষ্ট লক্ষ্য আর ধারাবাহিক প্রস্তুতিই আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।’

নুসরাতের জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা

নুসরাতের জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা। মায়ের সাহসেই বর্তমানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন বলে জানালেন। নুসরাত বলেন, ‘আমার মা আমার জন্য তাঁর অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করেছেন। আমি যা করছি, তাঁর কারণেই করছি। এখন আমার দায়িত্ব তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করা।’

দেশে স্নাতকপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নুসরাতের পরামর্শ, ‘আমি নিজেকে খুব মেধাবী মনে করি না, বরং পরিশ্রমী মনে করি। এ কারণেই হয়তো আজ এ জায়গায় আসতে পেরেছি। তাই সবাইকে বলব, একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে দিন। প্রফেসরদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিজের কাজ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে শিখুন। সুযোগ একদিন না একদিন আসবেই

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *