করোনা হয়েছিল বলেই কি এখন অ্যালার্জি, অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ছে

অনেকেরই নতুন করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা অ্যাজমার মতো উপসর্গ শুরু হচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারি শেষ হয়ে গেছে ভেবে অনেকে যখন স্বস্তি পাচ্ছেন, ঠিক তখনই নতুন এক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। সেটি হলো ‘লং কোভিড’। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা সত্ত্বেও মাসের পর মাস বহু মানুষ ভুগছেন নানাবিধ উপসর্গে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাঁদের আগে কখনো অ্যালার্জি বা অ্যাজমা ছিল না, তাঁদের মধ্যেও নতুন করে তীব্র অ্যালার্জি ও অ্যাজমার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী মেডস্কেপে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লং কোভিডে আক্রান্ত অনেক রোগীর শরীরে ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলেই নতুন করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা অ্যাজমার মতো উপসর্গ শুরু হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ শুধু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নয়। এটি পুরো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। ভাইরাসটি শরীর থেকে চলে যাওয়ার পরও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থেকে যায়। ফলে ধুলাবালু, ফুলের রেণু, খাবার কিংবা আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেও শরীর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। এটিকেই নতুনভাবে সৃষ্ট অ্যালার্জি বা অ্যাজমার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মেডস্কেপের প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেছেন, লং কোভিড রোগীদের মধ্যে অনেক সময় অ্যাজমাসদৃশ শ্বাসকষ্ট দেখা যায়, যা আগে কখনো ছিল না। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজনও দেখা দিচ্ছে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে র‍্যাশ, খাবারে অ্যালার্জি বা দীর্ঘদিনের নাক চুলকানি তৈরি হচ্ছে, যা আগে কখনো হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লং কোভিডে আক্রান্ত একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের মধ্যে নতুন অ্যালার্জি তৈরি হচ্ছে অথবা পুরোনো অ্যালার্জির তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। গবেষকেরা ধারণা করছেন যে কোভিড-১৯-এর ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন নামক একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে, যা অ্যালার্জি ও অ্যাজমার পেছনে ভূমিকা রাখে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর যদি কারও মধ্যে নতুন করে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। লং কোভিড এখন আর কেবল ক্লান্তি বা ব্রেন ফগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ধীরে ধীরে এক নতুন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্র ও অ্যালার্জিজনিত রোগের কারণ হয়ে উঠছে।
কোভিড-পরবর্তী এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মহামারি শেষ হলেও এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *