আবুধাবিকে হারিয়ে আইএল টি–টোয়েন্টির ফাইনালে সাকিবের দল

এক ম্যাচ আগেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি এমআই এমিরেটস। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারের পর দ্বিতীয় সুযোগটাই ছিল শেষ ভরসা। আর সেই মঞ্চে অভিজ্ঞতা আর নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেটে ভর করে ভুল শোধ করল সাকিব আল হাসানের দল।

 

আইএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে এমআই এমিরেটস। শারজায় গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দেয়। ফাইনালে আগামী রোববার ডেসার্ট ভাইপার্সের মুখোমুখি হবে এমিরেটস।

এই ম্যাচে সাকিবের অবদান ছিল দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। বল হাতে উইকেট না পেলেও চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের রানচাপ বাড়িয়ে দেন তিনি। পরে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন ২৪ বলে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে সাকিবের হাতেই।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আবুধাবি নাইট রাইডার্স। এমিরেটস বোলারদের আঁটসাঁট লাইনে ব্যাটসম্যানরা স্বাভাবিক শট খেলতেই পারেননি। দলের হয়ে একমাত্র আলিশান শারাফু কিছুটা লড়াই করেন। তিনি ৪০ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ৩৬ বলে ২৯ রান করলেও তা দলের গতির জন্য যথেষ্ট ছিল না।

এ ছাড়া ব্রান্ডন ম্যাকমুলেন করেন ১৩ রান। ফলস্বরূপ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২০ রানেই থামে আবুধাবির ইনিংস।

এমিরেটসের বোলিং আক্রমণে গজনফর ছিলেন সবচেয়ে সফল, ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট। রহিদ ১৯ রানে ২ উইকেট ও ফারুকি ৩০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। সাকিবের নিয়ন্ত্রিত স্পেল পুরো আক্রমণকে বাড়তি ভারসাম্য এনে দেয়।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ধাক্কা খায় এমিরেটস। দ্বিতীয় ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচার মাত্র ৫ রানে আউট হন। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিমও ১০ রান করে বিদায় নিলে ৩৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

সেই সময় ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের সপ্তম ওভার পেরোনোর পর টম ব্যান্টনকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে ৮২ রানের জুটি গড়ে জয়কে প্রায় নিশ্চিত করে দেন দুজন।

২৪ বলে ৩৮ রান করে সাকিব যখন আউট হন, তখন জয়ের জন্য এমিরেটসের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান। পরের বলেই সমীকরণ মেলান টম ব্যান্টন। ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এক ম্যাচ আগের হতাশা পেছনে ফেলে নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেটেই ফাইনালের মঞ্চে ফিরল এমআই এমিরেটস- যেখানে অপেক্ষা করছে ডেসার্ট ভাইপার্সের সঙ্গে শিরোপার লড়াই।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *