ভালো উইকেটের স্বীকৃতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আউটফিল্ডেও নেই স্বস্তি

অস্ট্রেলিয়া–ইংল্যান্ডের বক্সিং ডে টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়ায় এমসিজির উইকেট নিয়ে শুরু হওয়া সমালোচনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে পিচের মান নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে। সেই আলোচনায় আইসিসির রেটিং বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর এক হতাশাজনক বাস্তবতা।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লুটিসি) ম্যাচগুলোতে আইসিসির দেওয়া পিচ ও আউটফিল্ড রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান উঠে এসেছে সবচেয়ে নিচে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিচের মান এবং আউটফিল্ড—দুই ক্ষেত্রেই টেস্ট খেলুড়ে অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ।

আইসিসির রেটিংয়ে যে পিচ ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই নিশ্চিত করে, সেটিকেই ভালো উইকেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ চার আসরের ডব্লুটিসি মিলিয়ে সব দলের মধ্যে তলানিতে অবস্থান করছে।

পিচ রেটিং কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফলে পিচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিনবান্ধব বা পেস সহায়ক পিচে নির্দিষ্ট ধরনের দল সুবিধা পায়। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাট-বলের ন্যায্য লড়াই বজায় রাখতেই আইসিসি পিচ ও আউটফিল্ড রেটিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

 

প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে ম্যাচ রেফারি পিচ ও আউটফিল্ডের রেটিং দিয়ে তা আইসিসিতে জমা দেন। বর্তমানে চারটি ক্যাটাগরিতে রেটিং দেওয়া হয়—‘খুব ভালো’, ‘সন্তোষজনক’, ‘অসন্তোষজনক’ ও ‘খেলার অযোগ্য’। যে পিচে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা থাকে না, সেটিকে ধরা হয় ‘অসন্তোষজনক’। আর খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পিচ পায় ‘খেলার অযোগ্য’ গ্রেড।

 

ডিমেরিট পয়েন্ট ও শাস্তির বিধান

‘অসন্তোষজনক’ পিচ বা আউটফিল্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ভেন্যু পায় ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট। আর ‘খেলার অযোগ্য’ হলে দেওয়া হয় ৩টি ডিমেরিট পয়েন্ট। পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো ভেন্যু ৬ পয়েন্ট পেলে ১২ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন নিষিদ্ধ হয়। ১২ পয়েন্ট হলে দুই বছরের জন্য আয়োজনের অধিকার স্থগিত করা হয়।

পিচের মানে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

২০১৯ সালে ডব্লুটিসি শুরুর পর এখন পর্যন্ত চার আসরে ৯ দেশের ২২৪টি ম্যাচের পিচ ও আউটফিল্ড রেটিং বিশ্লেষণ করেছে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট উইজডেন। ৫৮টি ভেন্যুর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১৩টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ১৫.৩৮ শতাংশ পিচ ‘খুব ভালো’ রেটিং পেয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের নিচে রয়েছে কেবল শ্রীলঙ্কা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের ৭.৬৯ শতাংশ পিচ পেয়েছে ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং, যেখানে শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা শূন্য।

 

তুলনামূলকভাবে নিউজিল্যান্ডের ৮১.৮১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৪৩.৭৫ শতাংশ পিচ ‘খুব ভালো’ স্বীকৃতি পেয়েছে। ইংল্যান্ড ও ভারতের পিচগুলোর রেটিংও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো।

বাংলাদেশের তিন ভেন্যুতে হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি পিচ ‘খুব ভালো’ রেটিং পেয়েছে। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচ দুটিতে এই স্বীকৃতি আসে। অন্যদিকে ২০২৩ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্টে পিচ পেয়েছিল ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং।

আউটফিল্ডেও হতাশার চিত্র

পিচের পাশাপাশি বাংলাদেশের আউটফিল্ডের মানও উদ্বেগজনক। ১৩টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ৪৬.১৫ শতাংশ আউটফিল্ড ‘খুব ভালো’ রেটিং পেয়েছে। যেখানে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের আউটফিল্ডের মান অনেক এগিয়ে।

বাংলাদেশে ছয়টি ম্যাচের আউটফিল্ড ‘খুব ভালো’ রেটিং পেলেও ২০২৩ সালে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্টে আউটফিল্ড পেয়েছিল ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং। বাকি ম্যাচগুলো ছিল ‘ভালো’ বা ‘সন্তোষজনক’ ক্যাটাগরিতে।

 

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *