কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন উদ্ধার পাঁচ মরদেহের মধ্যে তিনজন নারী, একজনের পরিচয় শনাক্ত

দগ্ধ হয়ে দুজন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ৪ এপ্রিল

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আজ শনিবার রাত আটটার দিকে পুলিশের ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া পাঁচ মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহগুলো অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া তাঁরা নারী না পুরুষ, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে।

নাম ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া ওই নারী হলেন মিম আক্তার পাখি (১৮)। তাঁর বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা লন্ডনি হাউস এলাকায় থাকতেন।

দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ৪ এপ্রিল

এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দুজন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে মো. জিসান (১৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগুনে জিসানের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। আর মো. আসিফ (১৪) নামের এক কিশোর শ্রমিক জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। আসিফের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

আজ বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিকেল ৪টার দিকে কারখানা থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *